Posts

১১.মা কী ধন বুঝবি কিরে পাগল তুই? -আইনুল বারী

১১.মা কী ধন বুঝবি কিরে পাগল তুই? -আইনুল বারী ২৯/৬/১৪ -- -- -- -- পথশিশুটির নাম হৃদয় তার সাথে এক মায়াবতীর কথা হয়েছিলো এক দুপুড়ে.. রোজার মাস, খাওয়াতো বন্ধ? কী করবি তুই? নিরুত্তর হৃদয় তুই রোজা রাখিস না? ক্যাম করে? (সে বোঝাতে চায়, 'আমার বয়স পাঁচ বছর' ) তোর মা? রোজা রাখে? আগে রাখতো, এখন রাখে না কেনোরে? মারতো মাথা পাগল হয়ে গেছে, তাই তাহলে তোদের কীভাবে চলে? দুই ভাই ভিক্ষা করি, আর মা'রে নি' যাই দেই পৃথিবীর যাবতীয় বোঝা বহন করার মতো এতো শক্তি কোথায় পাস তুই,হৃদয়? যখন আমার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল এটুকু বুঝতেই। (সম্পাদিত)

১০.যুগ যুগ চপেটাঘাত -আইনুল বারী

১০.যুগ যুগ চপেটাঘাত -আইনুল বারী ২২/১১/১৪ -- -- -- কুপি বাতির আলোয় রাঙ্গা ছোট এক দেহের ভেতরে বেঁচে থাকার তীব্র লড়াই তাকে ঘিরে থাকে কতোগুলি সমাহিত আত্মা নিরুপায় আত্মার দল, এক মাটির ঘরের ভেতরে সম্মোহিত উদ্বেগ,ঘোর ব্যাকুল, শব্দের চেয়েও ঘনীভূত যেমন বিষাদ তেমনই কান্না যেমন বিষাদ তেমনই কান্না এক টুকরো ভালোবাসার জন্য, এমন লড়াই জলমগ্ন চোখে অপেক্ষার রাত জেগে থাকে আশায় আশায় আর কিছুক্ষণ বেঁচে থাকো ধন, আমাদের প্রাণ, ছোট সোনামনি এখুনি আসবে কমুনিটি ক্লিনিকের গাড়ি, আসবে দরকারি ওষুধ এখুনি আমাবস্যার রাতে ভাঙ্গা রাস্তা বেয়ে আসছে গাড়ি, আরো একটু সবুর বেঁচে থাকো, আমাদের জন্য আমাদের প্রাণ উজাড় ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তোমার জন্য আসছে ওষুধ সরকারি আমাদের বাপ-দাদারা কতোদিন ভুরা ঘাস খেয়ে ছিলো, কষ্টের দিনে কখনো কখনো মঙ্গার পীড়িত কালে সিদলের স্বাদ পায়নি কখনো পরপর মৃত্যু আমাদের, কতো শোকে পাথর হয়েছে প্রাণ প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে আজ সেসব দিন গেছে ফুরিয়ে, একটু সবুর কিন্তু শিশুর পেট দেবে নেমে আস...

৯.আরেক গল্প,আহত জীবনের -আইনুল

৯.আরেক গল্প,আহত জীবনের -আইনুল বারী ২৮/৬/২০১৪ -- -- পোশাক কর্মী আবু সাঈদের অভিমান  সকল দুর্নীতিবাজ সুখের প্রতি যেনো তাচ্ছিল্যে ছুঁড়ে ফেলা নিজের জীবনটাই অন্যদের অতি সুখের দিকে অসুখ যেনো অমোঘ সুখের মতোই সে পিতার দাবী নিয়ে বিষ খাইয়ে শান্ত করলো তার তিন শিশু সন্তানকে তারপর নিজে ঝুলে পড়লো ফ্যানের সাথে দড়ি লটকিয়ে অন্যদিকে টিভি পর্দায় দেখতে থাকা বিবশ লোভী চোখ মগ্নতায় দেখে অর্ধ-নগ্ন নর্তকীদের সাম্বা আর তিন আঙ্গুলে তুলে নেয় সুস্বাদু ফল-ফলার ব্যঞ্জিত রঙ্গিন সুখ গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে যেনো লালা ঝরা লোল অবোধ স্থুল শিশুর লাল লাল লালাপোষ বেয়ে... অথচ বিশ্ব ব্রাক্ষান্ডে এ এক আশচর্য ঘটনা তিনটি সজীব শিশুর আত্মার আর্তনাদ ব্যর্থ পিতার অভিযোগ অভিশাপ, আর নিঃস্ব মায়ের অঝোর কান্নায়... এ পৃথিবীর কি তখন মরে যেতে ইচ্ছে করে না? -- -- -- সাভারে ৩ ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেও গলায় দড়ি দিয়েছেন এক বাবা। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সাভার হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি এলাকায়। ঘাতক পিতার নাম আবু সাঈদ। তিনি একজন পোষাক কর্মী। স্থানীয়রা বলছে, অভাব অনটনের কারণে কিছুদিন থেকে স্ত্রীর সাথে কলহ চলছিলো আবু সাঈ...

৮.এখনই বলো না হেরে গেছি -আইনুল বারী

৮.এখনই বলো না হেরে গেছি -আইনুল বারী ২৪/১/২০১৬ -- -- -- ও আমার অনুশোচিত আত্মা ও আমার ব্যাথিত হৃদয় ওগো প্রিয় প্রাণ পাখি এখনই বলো না হেরে গেছি যতোক্ষণ ভালোবাসতে পারো ততোক্ষণ বলো না হেরে গেছি যতোক্ষণ তোমাকে আনন্দ দেবে একটি সুঘ্রাণিত ফুলের সৌরভ বলো না হেরে গেছি যতোক্ষণ এক রাশ শান্তি দেবে শান্ত বাতাস যতোক্ষণ আকাশের পাখিদের ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য তোমার মনে কাব্যিকতা এনে দেবে আর জেগে ওঠার পথ খুঁজে পাবে... ততোক্ষণ বলো না হেরে গেছি বলো, ভালোবাসার বেঁচে থাকাই জয়ী হওয়া তাই ভালোবেসে যাও,ভালোবাসা ছড়াও, ভালোবেসে আত্মাকে প্রবল করো।

৭.চাঁদ-জানালায় চোখ রেখে কবি খোঁজে শিশুর কষ্টের কারণ কী পৃথিবীতে? -আইনুল

৭.চাঁদ-জানালায় চোখ রেখে কবি খোঁজে শিশুর কষ্টের কারণ কী পৃথিবীতে? -আইনুল বারী (১/৮/১৫) শিশু তুমি অবাক হয়ো না, থমকে যেও না, ভয় পেয়ো না বরং ভেবে নিও বেঁচে থাকার এ একান্ত লড়াই তোমার শুরু হলো মার্তৃগর্ভ থেকেই পবিত্র শিশু, তুমি শুধু একা নও কতো শিশু প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে কতো অনাদরে, নিষ্ঠুরতায় ঝরে পড়ে তোমারতো জানা নেই জিহাদের কথা অন্ধ কূপে পড়ে জিহাদের মৃত্যু হলো আদুরির কথা,রাজনের কথা, বহু দেশে আর গাজার শিশুদের কথা... আজও শোকে-পাথর হয়ে থাকে কতো মা, হৃদয় আর কষ্টকে বোঝে না আরও একবার চাঁদ-জানালায় চোখ রেখে বিষন্ন কবি খোঁজে কষ্টের কারণ কী পৃথিবীতে? অবোধ শিশুদের? কষ্টের কারণ কী সৃষ্টির অন্তরালে? এর উত্তর কেবল কি দিব্যজ্ঞানেই হয়? শিশু, তুমি সমস্তু শক্তিতে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করো আর মহান সৃষ্টিকর্তার স্মরণেই বেঁচে থাকো এখনও কিছু মানুষ আছে, তোমার পাশে, কর্মে, চেষ্টায়, প্রার্থণায়। (মায়ের গর্ভে বুলেট বিদ্ধ হয় এক কন্যা-শিশু। জন্মের আগেই তার এ কেমন বেঁচে থাকার লড়াই? ২৩ জুলাই ২০১৫ মাগুর...

৬.কেনো জেনেছি নিজেকে -আইনুল বারী

৬.কেনো জেনেছি নিজেকে -আইনুল বারী (২০১৬) ---------- ------- নিজেকে জেনেছি যতোটা তাই আমার অজানায় তলিয়ে যাওয়া মহা সমুদ্রের মতো অজানাকেই সত্য মনে হয় যদি অজানাই সত্য হয় তবে কেনো জেনেছি নিজেকে কেনো খুঁজে পাই চোখের কোলে কাফনে মোড়া এই অশ্রুবিন্দু?

৫.বনের কাছে,পাখির কাছে -আইনুল বারী

৫.বনের কাছে,পাখির কাছে -আইনুল বারী --------------------- অতি আপন কেউ বলেছিলো তোমাকে যেতে হবে নদীর কাছে, বনের কাছে,পাখির কাছে, নম্রতা শিখতে, শিখবে সত্য বুড়িগঙ্গা শেখাবে কীভাবে নিজেকে বিলীন করে ভালোবাসতে হয় পরম আদরে সুন্দরবন শেখাবে প্রজ্ঞা সন্ধ্যার ঘরে ফেরা পাখিরা শেখাবে কীভাবে আরও বিনম্র হতে হয় কীভাবে ভালোবাসা পেতে হয় জীবন নেই এমন বস্তুর যারা প্রাণহীন মনে হয়,কিন্তু সচেতন গাছের পাতারা শেখাবে কীভাবে আদর পেয়ে আহ্বলাদিত হতে হয় যেখানে কোনো কামুকতা নেই, নেই প্রতারণা নদীর পানির প্রার্থণা হৃদয়ে পবিত্রতার স্পর্শ জাগা্বে হাতীর মায়ার স্নেহে মন কোমল হবে প্রজাপতি,ফড়িং ও পিঁপড়েরাও শেখাবে আনন্দ ফূর্তির আয়োজন, সুখের বাগানে।