Posts

Showing posts from April, 2017

৬.কেনো জেনেছি নিজেকে -আইনুল বারী

৬.কেনো জেনেছি নিজেকে -আইনুল বারী (২০১৬) ---------- ------- নিজেকে জেনেছি যতোটা তাই আমার অজানায় তলিয়ে যাওয়া মহা সমুদ্রের মতো অজানাকেই সত্য মনে হয় যদি অজানাই সত্য হয় তবে কেনো জেনেছি নিজেকে কেনো খুঁজে পাই চোখের কোলে কাফনে মোড়া এই অশ্রুবিন্দু?

৫.বনের কাছে,পাখির কাছে -আইনুল বারী

৫.বনের কাছে,পাখির কাছে -আইনুল বারী --------------------- অতি আপন কেউ বলেছিলো তোমাকে যেতে হবে নদীর কাছে, বনের কাছে,পাখির কাছে, নম্রতা শিখতে, শিখবে সত্য বুড়িগঙ্গা শেখাবে কীভাবে নিজেকে বিলীন করে ভালোবাসতে হয় পরম আদরে সুন্দরবন শেখাবে প্রজ্ঞা সন্ধ্যার ঘরে ফেরা পাখিরা শেখাবে কীভাবে আরও বিনম্র হতে হয় কীভাবে ভালোবাসা পেতে হয় জীবন নেই এমন বস্তুর যারা প্রাণহীন মনে হয়,কিন্তু সচেতন গাছের পাতারা শেখাবে কীভাবে আদর পেয়ে আহ্বলাদিত হতে হয় যেখানে কোনো কামুকতা নেই, নেই প্রতারণা নদীর পানির প্রার্থণা হৃদয়ে পবিত্রতার স্পর্শ জাগা্বে হাতীর মায়ার স্নেহে মন কোমল হবে প্রজাপতি,ফড়িং ও পিঁপড়েরাও শেখাবে আনন্দ ফূর্তির আয়োজন, সুখের বাগানে।

৪.এ তো মৃত্যুর চেয়ে বেশি -আইনুল বারী

৪.এ তো মৃত্যুর চেয়ে বেশি -আইনুল বারী ১৮/৫/১৫ (এ যুগের দাস ব্যবসা মানব পাচার। সামান্য ভাগ্যের সন্ধানে সমুদ্রের চোরা পথে নিরুদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে সমাজে্র বঞ্চিত-উপেক্ষিত অনেক মানুষ।কিন্তু প্রতারিত হয়ে বেরিয়ে পড়া সে সমস্ত পুরুষ-নারী-শিশুর অনেকেরই মৃত্যু হচ্ছে সমুদ্রের মাঝে, অথবা নাম না জানা কোনো উপকূলে, বা অরণ্যের গুপ্ত ঘাঁটিতে।মৃত্যু হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে,অনাহারে,কষ্টে-ক্লীষ্টে,প্রত্যাখ্যাত হয়ে, ক্ষমার অযোগ্য অমানবিকতায়।কেউ সেভাবে এগিয়ে আসছেন না, তাগিদ বোধ করছেন না তাঁদেরকে বাঁচাতে। এ সত্যি এক ভয়ানক মানবিক বিপর্যয়।শুধু বিপর্যয় নয়, মানবতার বিরুদ্ধে অতি বড় অপরাধ।সম্মিলিত উপেক্ষায় সংঘটিত জেনোসাইড! আমার এ কবিতা ঐ সমস্ত জাহাজের প্রকোষ্ঠে, বন্দী শিবিরের আটকে পড়া পাচারকৃত অসহায় মানুষের মুক্তির জন্য, তাদের আত্মার শান্তির জন্য, একটি প্রার্থণা। ) --------------------------- সাগরের বুক ভাসমান জাহাজ ভেলায় আমরা ক'জন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে সুপ্রসন্ন ভাগ্য যদি হয়! অনির্দিষ্ট গন্তব্য, জানি না কোথায়... তবুও অনন্ত ভেসে যাই উপরে আকাশ, আকাশ কি এতো বড় হয়? আজ ক'দিন আকাশের বিশালতা বেড়ে গেছে ছাড়িয়েছে...

৩.ছোট নীল আলো- আইনুল বারী

৩.ছোট নীল আলো আইনুল বারী - -  - এক সময় আমরা গরীব ছিলাম আমাদের পরনের জামাগুলো আঁটোসাটো ছিলো জানালার পর্দা ছিলো মাপমতো ,  আজকের তুলনায় দেখতে বেমানান ঘরগুলো ছিলো ছোট ছোট জড়ো হয়ে থাকতাম আমরা ক '  ভাইবোন আমাদের ঘরে এয়ারকন্ডিশনার ছিলো না বড় সোফা ছিলো না কারুকার্যময়ী শো-কেস ছিলো না... তাই আজো মনে জ্বলজ্বল করে এক বর্ণালী সুখের মতো প্রথম যে দিন বাসায় হারিকেনের বদলে বিদ্যুত সংযোগ হলো অদ্ভুত সে আলো ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলাম কী নেশায় সব কিছু ছাপিয়ে তাই স্মৃতিতে জাগরূক আজো প্রথম যেদিন বাসায় সিলিং ফ্যানটি এলো মস্তো দেয়াল ঘড়িটি এলো রেডিও-র বদলে টিভি সেটটি এলো... আমাদের বাসার সামনে বিরাট উঠোন ছিলো তা ছিলো আমাদের আনন্দ-ক্যানভাস বাইরে ছিলো বিরাট খোলা মাঠ , আদিগন্ত ভূবন যেনো পাড়ার ছেলে মেয়েরা দল বেঁধে থাকতাম ঘুরতাম ,  খেলতাম ,  ফুল তুলতাম , হাসিতে গড়াতাম , প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতাম ,  গা ছম ছম ভূতের গল্প হতো মায়ের কোলে দুপুড়ের গল্পে ছিলো মধুমাখা রাত জাগা গানের আসরে ছিলো সম্মোহন... তারপর! যেদিন অহংকারী দামী সো...

২.বিলাপ কাব্য -আইনুল বারী

২.বিলাপ কাব্য -আইনুল বারী (সাভার ট্রাজেডির ভিক্টিম মৃত্যু ফাঁদে আটকা থাকা মানবত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন) - - - আমার শয্যার পাশে কে রেখেছে আহত গোলাপ এখনো আমি মৃত নই এ চিৎকার এক শেষ প্রতিবাদ প্রত্যেক দেয়ালকে আঘাত করুক ঐ চোখে অশ্রু ছিলো কাল সন্ধ্যায় পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর শুধু রক্ত রক্তের ধারা কমে আসে এখন জীবন অশ্রু ধারার মতো চারপাশে ঘুম, ঘুম আরতো কয়েক মুহুর্তের জেগে থাকা আমি অর্ধমৃত আমাকে মৃত বলো না এখনই রেখো না বিদায়ের ছেঁড়া গোলাপ।